Menu

সিংড়ায় বই ব্যবসায় শিক্ষকরা!

সিংড়া (নাটোর) থেকে আবু জাফর সিদ্দিকী:
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শিক্ষকদের একাংশ নেমেছে বই ব্যবসায়। কয়েকটি পাবলিকেশন্স এর সাথে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তির মাধ্যমে এ ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। উচ্চমূল্যে গ্রামার বই গুলো বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। না কিনলে পরিক্ষায় নাম্বার দেয়া হবেনা, কিংবা ক্লাসে আসতে নিষেধ করতেও দ্বিধা করছে না তারা।

সিংড়ায় ইতিমধ্যে গাইড বইয়ের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি স্কুল। স্কুল গুলো হচ্ছে কতুয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় (লেকচার ) এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ছবিরন গুলজান স্কুল এন্ড কলেজ (পুঁথিনিলয়) ৯০ হাজার টাকা, ভাগনাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় (পুঁথিনিলয়) ৮০ হাজার টাকা, কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয় (নবপুথি) ৬০ হাজার টাকা, নুরপুর উচ্চ বিদ্যালয় (পাঞ্জেরী) ১ লক্ষ টাকা, কলম উচ্চ বিদ্যালয় (পাঞ্জেরী) ২ লক্ষ টাকা, কলম মডেল স্কুল (পাঞ্জেরী) ৫০ হাজার টাকা, পাঙ্গাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (পাঞ্জেরী) ১ লক্ষ টাকা চুক্তি করা হয়েছে। সরকার অনুমোদিত গ্রামার বই বাদ দিয়ে উচ্চ মূল্যে এই বই গুলো শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে। সরকার অনুমোদিত গ্রামার বাদ দিয়ে উচ্চ মূল্যে বই কেনায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন অভিভাবকরা।

মানুষ গড়ার কারিগরদের বই ব্যবসায় নামানোর জন্য প্রকাশনার মালিকরা লোভনীয় অফার দিয়ে এসব করছে। এর সাথে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে সিংড়া উপজেলার একটি স্কুলে টাকার বিনিময়ে বিনামূল্যের বই বিতরণের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে সরকারি তদন্তে। এ জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে।

উপজেলায় মহিষমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক গত ১লা জানুয়ারি বই উৎসবের দিন স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা নেন বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদও প্রকাশ হয়। এরপর তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর নিকট হতে ২৫০ টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক। এতে ১লা জানুয়ারি বই উৎসবের দিন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বই উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তদন্ত কমিটির কাছে স্কুলটির দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক বক্তব্য দিয়েছেন যে, বই উৎসবের দিন বই নিতে টাকা দিতে হবে তাই তারা তাদের ছেলে-মেয়েকে ২৫০ টাকা করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ‘সরেজমিনে তদন্তকালে টাকার বিনিময় বই বিতরণের সত্যতা মিলেছে। আর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে’।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

two × one =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ