Menu

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে কাদেরের শরীরে

সাতমাথা অনলাইন ডেস্ক: ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকের পর ‘জীবন শঙ্কায়’ থাকা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শরীরে ইনফেকশন (সংক্রমণ) ছড়িয়ে পড়েছে। কিডনিতেও সমস্যা ধরা পড়েছে।

তবে এসব রোগ জটিল পর্যায়ে নেই। কিডনির ডায়ালাইসিস করা লাগবে না। ইনফেকশনও গুরুতর নয়। সার্বিকভাবে তার শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এখন অনেকটাই স্থিতিশীল আছেন এই রাজনীতিক। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

মূলত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়ই ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়(বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়।মন্ত্রী-এমপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে ভিআইপিদের আনাগোনায় চিকিৎসা ব্যহত হওয়ার উপক্রম হয় বিএসএমএমইউতে।তারা সবাই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে গত রোববার থেকে বিএসএমএমইউতে ভিড় করেন।হাসপাতালে ভিড় না করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও এক্ষেত্রে খুব একটা কাজে লাগেনি।এক্ষেত্রে আবেগও কাজ করেছে।এমতাবস্থায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. দেবী শেঠির সোমবার ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার পরামর্শ দেন।দেবী শেঠি দেখে যাওয়ার পর ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এ ধরণের রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অ্যালাউ করার কারণে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।তাই বিএসএমএমইউতে সঠিক চিকিৎসা দেয়া সত্ত্বেও তাকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিচ্ছে মেডিকেল বোর্ড।

ইনফেকশন এড়ানোর যুক্তিতে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও সেটি থেকে এড়ানো যায়নি। ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা সম্পর্কে মঙ্গলবার সকালে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানান, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সোমবার হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই সেখানকার চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। জরুরি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, তার শরীরে কিছু সংক্রমণ রয়েছে। পাশাপাশি কিডনির সমস্যা পাওয়া গেছে। তবে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন নেই।

আগের তুলনায় ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে, এমন তথ্য জানিয়ে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, তার অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। নতুন করে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসকরা।

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. ফিলিপ কোহের তত্ত্বাবধানে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা চলছে। আইসিইউ ৩০০৮ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদের।

সেখানে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাস ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে। রাত ৮টা দিকে বিমানবন্দরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ল্যান্ড করার পরই তাকে নেয়া হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।

সিঙ্গাপুরে পৌঁছার পরপরই বিমানবন্দরে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এ সময় তার রক্তচাপ ছিল স্বাভাবিক। পাশাপাশি শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল ছিল বলে সোমবার রাত পৌনে ৯টায় যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান।

এর আগে এদিন দুপুরে বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। অর্থাৎ তার শারীরিক ঝুঁকি আগের চেয়ে কম কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না।

এদিকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের পথে কাদেরের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের দুই চিকিৎসক, একজন নার্স ও একজন টেকনিশিয়ান। রোববার সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেই ঢাকায় আসেন তারা।

বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক বলেন, রাত ৮টা নাগাদ ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে তাকে সরাসরি মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রিন্সিপাল ড. ফিলিপ কোহর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। তার মাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে।

রোববার সকালে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সিসিইউর ২ নম্বর বেডে লাইফসাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। পরে সোমবার উপমহাদেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

1 × three =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ