Menu

মামুনুল হকসহ হেফাজতের ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

সাতমাথা ডেস্ক: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে খন্দকার আরিফ-উজ-জামান নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিন হাজার হেফাজত, জামায়াত-শিবির, বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সেদিন নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাদী উগ্র মৌলবাদী ব্যক্তিদের উচ্ছৃঙ্খল জমায়েত দেখতে পান। তাদের স্লোগান ও কথোপকথন থেকে জানতে পারেন, মামুনুল হকের নেতৃত্বে শীর্ষস্থানীয় হেফাজত, জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান বানচালের ষড়যন্ত্র করেছে। সেইসঙ্গে সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা দা, ছোরা, কুড়াল, কিরিজ, হাতুড়ি, তলোয়ার, বাঁশ, লঠি, শাবল, পাইপগান ও রিভলবার নিয়ে বাদীসহ অন্যান্য মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, লোকমান হাকিম, নাসির উদ্দিন মনির, নায়েবে আমির বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, নুরুল ইসলাম জেহাদী, মাজেদুর রহমান, হাবিবুর রহমান, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, জসিম উদ্দিন, মাসুদুল করিম, মনির হোসাইন কাশেমী, যাকারিয়া নোমান ফয়েজী, ফয়সাল আহমেদ, মুশতাকুন্নবী, হাফেজ মো. জোবায়ের ও হাফেজ মো. তৈয়ব। সেইসঙ্গে মামুনুল হকের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আরও দুই-তিন হাজার আসামি ব্রাক্ষণবাড়ীয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের নানা স্থানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাড়িঘরে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ব্রাক্ষণবাড়ীয়ায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাংচুর করে এবং কিশোরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে। তারা বায়তুল মোকাররমের বিভিন্ন হাদীস ও কোরান শরীফসহ ধর্মীয় বইপত্র পুড়িয়ে ইসলামের অপূরণীয় ক্ষতি করে। এতে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়। তারা দেশকে অস্থিতিশীল, অকার্যকর ও মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যমে অবৈধ পথে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাদীর অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘিরে গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করে হেফাজত। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা বিক্ষোভ করেন। সেখানে পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়। এটিকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় বিক্ষোভ হয়। সেখানেও সংঘর্ষে মৃত্যু হয়। এসব সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়। আহত হয় অসংখ্য।

 

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

7 + 9 =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ