Menu

বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে ক্রীড়াবিদ-সংগঠকরা উপেক্ষিত!


মোস্তফা মোঘল : আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জেলার ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের ভাবিয়ে তুলেছে। একই সাথে নির্বাচনের মাঠে থাকা অল্প সংখ্যক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা এবং ব্যবসায়ীদের কালো টাকার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় দেখা গেছে, সহসভাপতির ২টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ৫ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাগর কুমার রায়, যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সাইরুল ইসলাম এবং সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় নুরুল আলম টুটুল। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন দুজন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া চেম্বারের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন ও ক্রিকেটার তানভীর আলম রিমন। কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী শাজাহান আলী বাবু সাবেক এ্যাথলেট এবং সাংবাদিক। তবে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম কামাল শামীম ক্রীড়াবিদ কিম্বা ক্রীড়া সংগঠক নন। কার্যনির্বাহী পরিষদের (সাধারন) ১৪টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২৭জন প্রার্থী। এদের মধ্যে ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক রয়েছেন মাত্র ১০ জন। বাঁকি ২৭ জন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হলেন- সরকারি আজিজুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু জাফর মোঃ মাহমুদুন্নবী রাসেল, জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারন সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আ’লীগের উপ- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আল রাজী জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মাশরাফী হিরো, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাফুজুল ইসলাম রাজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কাউন্সিলর আরিফুর রহমান আরিফ, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এ্যাডোনিস বাবু তালুকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান শান্ত, যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর মোস্তাকিম রহমান, ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন, ব্যবসায়ী ইসতিয়াক আহম্মেদ, ব্যবসায়ী এটিএম শফিকুল হাসান জুয়েল, ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানী, হাউজিং ব্যবসায়ী এমদাদুল হক রতœ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকবরিয়া গুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল। ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের মধ্যে রয়েছেন ক্রিকেট আম্পায়ার ও কোচ খালেদ মাহমুদ রুবেল, ক্রীড়া সংগঠক জামিলুর রহমান জামিল, ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক টি এম মামুন, মুনছুর আল মোছাদ্দেক (শেখ রানা), আলাউদ্দিন, নুরুল আনাম পুলক, ফিরোজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম বাবু, শহিদুল ইসলাম স্বপন, লুৎফুল বাশার মোঃ আব্দুল মোমেন বুলু।

২টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী তিনজনই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। এরা হলেন- জাকিয়া সুলতানা আলেয়া, দিলরুবা আমিনা আক্তার বানু সুইট এবং হাছনা খাতুন। এদের মধ্যে হাসনা খাতুন সাবেক ক্রীড়াবিদ। এছাড়া অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের ২টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপু ও ব্যবসায়ী অশোক রায়, উপজেলা কোটায় নির্বাহী সদস্যের দুটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ১১৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে জেলা প্রশাসকের বিশেষ কোটায় যে ৫জন ভোটার হয়েছেন তাদের তিনজনই আওয়ামীলীগের নেতা। তারা হলেন- জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি, বগুড়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাফুজুল ইসলাম রাজ। বাঁকি দু’জন হলেন শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিল ও প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় আজিজুল হক।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকায় জেলার অনেক বর্ষীয়ান খেলোয়াড় এবং সংগঠকদের নাম নেই। এই তালিকা প্রকাশের পর ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সাবেক কৃতী খেলোয়াড় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি খাজা আবু হায়াত হিরু ভোটার হতে না পারার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নিবেদিত এই দু’জন মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের অপমান করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

নাম গোপন রাখার শর্তে একাধিক প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক এই প্রতিবেদককে জানান, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি হচ্ছে। ক্রীড়া সংস্থাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ক্ষমতাসীন দলেল নেতারা নানা কায়দায় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নিচ্ছেন, অন্যদিকে অর্থের প্রয়োজনীয়তার দোহাই দিয়ে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের ঢালাও ভাবে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী পরিষদের সদস্য বানানো হচ্ছে। ফলে ক্ষমতা ও কালো টাকার দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকরা। শুধুমাত্র ক্ষমতা আর টাকার জোরে কেউ রাতারাতি ক্রীড়া সংস্থার কর্তা বনে যাচ্ছেন, অথচ বছরের পর বছর ক্রীড়াঙ্গনে শ্রম দিয়েও ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটিতে ঠাঁই মিলছেনা অনেকেরই।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

eleven − ten =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ