Menu

বগুড়ায় বহিস্কৃত দুই নেতার জন্য বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মির ঢল


সাতমাথা অনলাইন: জেলা বিএনপির সভাপতিকে শোকজ এবং অপর দুই নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি প্রদানের প্রতিবাদে বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ের মূল গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করছেন নেতাকর্মিরা। বৃহস্পতিবার সন্ধার পর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বহিস্কৃত দুই নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত নেতাকর্মিরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষনা দিয়েছেন। একই সাথে দুই নেতাকে বহিস্কারের জন্য সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে দায়ী করে তাকে বগুড়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়া বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের জন্য জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৃহস্পতিবার ঢাকার নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়। দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া ওই সভায় বগুড়ায় বিএনপির নব নির্বাচিত ও সাবেক এমপি এবং দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু।

সূত্র জানায়, ওই সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বগুড়া জেলা বিএনপিতে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হবেন না- এমন নেতাদের আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক করে আগামী দশ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সভায় গুঞ্জন ওঠে যে, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান অথবা সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের মধ্যে যে কোন একজনকে আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সভায় উপস্থিত জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বক্তৃতা করেন। তার পরপরই জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল কুমার দাস এবং জেলা বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমু জেলা সভাপতির পক্ষ নিয়ে দলের পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তারা এ সময় কমিটি পুনর্গঠনে ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়নেরও দাবি জানান। তবে, তাদের এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এঘটনার পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলামকে শোকজ এবং দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল কুমার দাস এবং প্রকাশনা সম্পাদক শাহ্ মেহেদী হাসান হিমুকে অব্যাহতি প্রদানের কথা ফোনে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই তিন নেতার অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা শহরের নওয়াববাড়ি সড়কে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। শুক্রবার বিকেলে শত শত নেতাকর্মি দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মিদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

4 × three =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ