Menu

বগুড়ায় দলিল লেখকের মৃতদেহ উদ্ধার : তিন ভাই আটক

স্টাফ রিপোর্টার: দুই দিন আগে নিখোঁজ মশিউর রহমান সোনা মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বগুড়া সদরের বারপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় ধান ক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সোনা মিয়া বারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত নান্নু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় দলিল লেখক ছিলেন। এদিকে, দলিল লেখক মশিউর রহমান সোনা মিয়ার (৩০) মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তার তিন ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। সোনা মিয়ার বাবা মকবুল হোসেন নান্নু মিয়া হত্যা মামলার বাদী ছিলেন তিনি। আর ওই মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন সোনা মিয়ার ছোট ভাই তোতা মিয়া।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর স্থানীয় মসজিদে তারাবীহ নামাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়িতে মোবাইল ফোন রেখে সোনা মিয়া বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে তিনি বাড়ি ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোন সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের পর সোনা মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বগুড়া সদর থানায় জিডি করেন।

পরে শনিবার সকালে সোনা মিয়ার বাড়ির পিছনে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ধান ক্ষেত থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সোনা মিয়ার মরদেহের সন্ধান পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বার্তা ২৪.কমকে বলেন, এখন পর্যন্ত জানা যায়নি কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।

দলিল লেখক মশিউর রহমান সোনা মিয়ার (৩০) মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তার তিন ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। সোনা মিয়ার বাবা মকবুল হোসেন নান্নু মিয়া হত্যা মামলার বাদী ছিলেন তিনি। আর ওই মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন সোনা মিয়ার ছোট ভাই তোতা মিয়া।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদেরকে থানায় নেয়া হয়েছে তারা হচ্ছেন সোনা মিয়ার ছোট  তিন ভাই যথাক্রমে তোতা মিয়া, তারা মিয়া ও মন্নু মিয়া।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে পারিবারিক কলহের জের ধরে সোনা মিয়ার বাবা মকবুল হোসেন নান্নু মিয়ার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন ছেলে তোতা মিয়া। লাঠির আঘাতে নান্নু মিয়া মারা যান। ওই সময় ছোট ভাই তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন সোনা মিয়া। পিতা হত্যার অভিযোগে তোতা মিয়া গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তারা চার ভাই এক বাড়িতেই বসবাস করতেন।

নিহতের মা সামছুন্নাহার জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে সস্পর্ক ভাল ছিল। পিতা হত্যা নিয়ে ভাইদের মধ্যে কোন বিরোধ ছিল না। তোতা মিয়া নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছেন।

পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, তোতা মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ২০১৭ সালে পিতাকে হত্যার পর তিনি নিজেই থানায় হাজির হয়েছিলেন।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, নিহত সোনা মিয়া স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের বাবার বাড়ি ভোলা জেলায়। তাদের সংসারে ৬ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।  সোনা মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের পরকিয়া নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এ কারণে পুলিশ তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলে এলাহী বলেন, নিহতের তিন ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি নিয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

seven − 3 =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ