Menu

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় লাখ টাকার মাছ

স্টাফ রিপোর্টার: ব্যাপক আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে বগুড়ার গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা বুধবার শুরু হয়েছে। মেলা ঘিরে উত্তরাঞ্চল’সহ বগুড়া জেলা ও গাবতলী উপজেলা জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ছিল ঘরে ঘরে আনন্দ উল্লাস ও হাসিখুশি’র বাৎসরিক ‘পোড়াদহ মেলা। মেলা চত্ত্বর এলাকায় আজ (বৃহস্পতিবার) আয়োজন করা হয়েছে বউ মেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দরের পূর্বধারে গাড়ীদহ নদী ঘেষে পোড়াদহ নামক স্থানে সন্ন্যাসী পূঁজা উপলক্ষে ব্যক্তি মালিকানা জমিতে এই ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা বুধবার শুরু হয়েছে। মেলাটি প্রতিবছরের বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ বুধবার অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার উদযাপিত হয়। তবে এ বছরে অন্যস্থানে অল্প জায়গায় মেলাটি উদযাপিত হলো। মেলাকে ঘিরে উৎসব আমেজে মেতে উঠেছিল আশপাশের গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। মেলা উপলক্ষে ওই এলাকার গৃহবধূরা আগেভাগেই ঘর-দুয়ার পরিস্কার করা, মুড়ি-খৈ ভাজা, পিঠা-পুলি ও নারিকেলের নাড়ু তৈরী করে। নিকট আত্মীয় স্বজনরা সবার ঘরে ঘরে আসেন। মেলার স্থান পোড়াদহ এলাকায় হলেও মেলাটি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন স্থানে। পোড়াদহ মেলাকে ঘিরে মেলা বসেছিল দূর্গাহাটা, বাইগুনী, দাঁড়াইল বাজার, তরনীহাট, পেরীহাট’সহ আশপাশ বন্দরের বিভিন্ন স্থানে। একদিনের মেলা হলেও উৎসব চলে সপ্তাহ জুড়ে। মেলায় হাজার-হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছিল।

এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা জানান, প্রায় ৫’শ বছর পূর্ব থেকে মেলাটি উদযাপিত হয়ে আসছে। ঈদ বা অন্য কোন উৎসবে মেয়ে-জামাইকে দাওয়াত না দিলেও পোড়াদহ মেলায় দাওয়াত দিয়ে ধুমধাম করে খাওয়াতে হয় যা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ, কুল (বরই) ও কাঁঠের তৈরি ফার্নিচার। বিক্রি হয়েছে হাজার হাজার মন হরেক রকমের ছোট-বড় মিষ্টি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, কৃষি সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য হাট-বাজারের মতই বেচা-কেনা হয়েছে। মেলায় নানা রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। কাঁঠ-বাঁশ ও মাটির তৈরী পুতুল-খেলনা ও বেলুন’সহ হরেক রকমের জিনিস বিক্রি হয়েছে বেশী। ফার্ণিচার কেনা-বেচা মেলা দিনে চললেও মূলত মেলা পরের দুইদিনেও পুরোদমে কেনা-বেচা হয়। সবার সমাগমে জমে উঠেছিল পোড়াদহ মেলা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। মেলা’য় হিজড়া’দের (তৃতীয় লিঙ্গ) সমাগম ছিল আগের মতই। এ বছরে মাছের আমদানি ছিল বেশী। যমুনা নদী থেকে ধরা সিরাজগঞ্জের আব্দুস সামাদের মাছের দোকানে একটি ৮০শ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ (প্রতিকেজি ১হাজার ৫শ টাকা) দরে মোট ১লক্ষ ২০হাজার টাকা দাম হাঁকা হয়েছে। তবে ৫০কেজি থেকে ৮০কেজি পর্য়ন্ত মাছ বেশী উঠেছিল মেলায়। মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন। মেলার প্রধান আয়োজক মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় পোড়াদহ মেলা সু-শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গাবতলী মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম হোসেন জানান, পোড়াদহ মেলা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী জানান, মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা ছিল। ফলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে মেলাটি উদযাপিত হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) তাপস কুমার পাল জানান, পোড়াদহ মেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়াও মেলায় আগত দর্শাণার্থীদের সেবা দিতে একটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছিল। ফলে সকলের সহযোগিতায় মেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

three × 3 =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ