Menu

নওগাঁর রাণীনগরে আ’লীগ নেতাদের বহিস্কার করে মাইকিং


এম এ ইউসুফ রাণীনগর থেকে ফিরে: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ ৬জন এবং যুবলীগের ৪জনসহ মোট ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি এলাকায় মাইকিং করে প্রচার করা হয়।

রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের দলীয় প্যাডে পৃথক ভাবে স্বাক্ষরিত বহিস্কারের কারণ হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়, জামায়াত শিবির ও বিএনপি’র একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন ও দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭ (ক), ৪৭ (ঙ), এবং ৪৭ (ঠ) ধারা মোতাবেক রাণীনগর উপজেলা শাখা থেকে ১০ জনকে বহিষ্কার করা হলো’। বহিষ্কৃতরা হলেন, রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল বারিক মোল্লা, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল ইসলাম, সদস্য রেজাউল ইসলাম বেলাল, প্রাথমিক সদস্য ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল, কালীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস ও একডালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা। অপর দিকে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, সহ-সম্পাদক হারুন মোল্লা, সদস্য মীর মোয়াজ্জেম হোসেন লিটন ও একডালা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বছির আলী মিঠু’কে বহিস্কার করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ থেকে গত ২ মার্চ এবং যুবলীগ থেকে ৩ মার্চ বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা হলেও বুধবার রাত এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাইকিং করে বহিষ্কারের বিষয়টি এলাকায় প্রচারণা করা হয়।

এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দীন ও রাণীনগর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন জানান, জামায়াত শিবির ও বিএনপি’র সাথে আঁতাত করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন করে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামীলীগের ৬ জন ও যুবলীগের ৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল ইসলাম জানান, বহিষ্কারের বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু এখনো কোন চিঠি পাইনি।

এদিকে, রাণীনগরে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক কর্মীকে মারপিট, হুমকি-ধামকি, পোষ্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলা এবং নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে মাইকে অপপ্রচারের অভিযোগে নৌকা প্রতীকের লোকজনের বিরুদ্ধে পৃথক ভাবে ৪টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাণীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল উপজেলা সহকারী রিটানিং অফিসার বরাবর এসব লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, গত মঙ্গলবার উপজেলার কুজাইল বাজারে প্রচারণাকালে ফিরোজ হোসেন নামের একজন সর্মথক মোবাইল ফোনে তার সাথে ছবি তোলে ফেসবুকে দেয়। ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়ার জ্বের ধরে বুধবার দিন নৌকা প্রতীকের লোকজন ফিরোজ হোসেনকে মারপিট করে। এছাড়া উপজেলার একডালা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মটরসাইকেল প্রতীকের পোষ্টার-ব্যানার, ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়েছে। এর পাশাপাশি মটরসাইকেল প্রতীকের সর্মথক ও প্রচার প্রচারণাকারীদের মুঠো ফোনে ও প্রকাশ্যে নানান হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল’র দাবি, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তার ভাতিজা তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত জেনে এলাকার নির্বাচনী শান্ত পরিবেশকে অশান্ত ও জনমনে আতংক সৃষ্টি করছে। দুই জন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের মোট ১০ জন নেতা কে বহিস্কার করে বিষয়টা এলাকা জুরে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানান ধরণের “মিথ্যে” প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণ বিধি বীরদর্পে লঙ্ঘন করছেন নৌকা প্রতীকের লোকজন। নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে এসব প্রচার প্রচারণার কারণে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাণীনগর উপজেলা সহকারী রিটানিং অফিসার বরাবর পৃথক ভাবে ৪টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এব্যাপারে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানান, তার দায়েরকৃত অভিযোগ গুলা সঠিক নয়, রাণীনগর উপজেলার কোথাও কোন মারপিট বা পোষ্টার ছেড়ার ঘটনা ঘটেনি।

এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসার রুহুল আমিন জানান, মটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল ৪টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগগুলো জেলা রিটানিং অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

three × one =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ