Menu

তামিম সৌম্য মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির পরও যে কারণে ইনিংস হার

সাতমাথা অনলাইন ডেস্ক: হ্যামিল্টন টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সৌম্য সরকার। শেষ পর্যন্ত ১৪৯ রান তুলে আউট হয়েছেন তিনি। আর ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি থেমেছেন ১৪৬ রান করে।

এদিন ৯৪ বলে সৌম্যর ছোঁয়া তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার যৌথভাবে দেশের হয়ে দ্রুততম টেস্ট শতক। এ কীর্তি আছে তামিম ইকবালের। টাইগারদের এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে নান্দনিক সেঞ্চুরি করেন তিনিও। তবু এক ইনিংস ও ৫২ রানে হেরেছে সফরকারীরা। দুর্দান্ত জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড।

তো তিন সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশের হার কেন? কৌতুহলী পাঠকদের সেই চাহিদা নিবৃত্ত করতে হারের ছয় কারণ উল্ল্যেখ করা হলো-

১. দুই ইনিংসেই ভালো শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে সেটা ধরে রাখতে পারেননি টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তামিম। এছাড়া কোনো ব্যাটসম্যানই ৩০ এর ওপর রান করতে পারেননি। ৪ উইকেটে ১৪৯ রানে থেকে ক্ষণিকের ব্যবধানে গুটিয়ে যান সবাই। ক্রিকেটের অভিজাত সংষ্করণে সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। তিনি হয়েছেন পুরোপুরি ব্যর্থ। দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মাত্র ২০ রান।

২. প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফেলেন নেইল ওয়েগনার। কোনোভাবেই তাকে মোকাবেলা করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা। একাই ৫ উইকেট শিকার করে সফরকারীদের গুঁড়িয়ে দেন তিনি। বেশিরভাগ বল শর্ট পিচে রেখে বডিলাইনে বোলিং করেন এ পেসার। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তা সামলাতে ব্যর্থ হন।

৩. এ টেস্টে চরম ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশ বোলারা। পেসাররা পারেননি গতির ঝড় তুলতে। সুইং করাতেও ব্যর্থ হন। স্পিনাররাও ঠিক নিশানায় বল ফেলতে পারেননি। বোলিংয়ে ইতিহাসেরই অন্যতম ব্যর্থ প্রদর্শনী দেথিয়েছেন তারা। আবু জায়েদ রাহী, খালেদ আহমেদ, এবাদত গোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজরা কিছুই করে দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে সফল হয়েছেন নিউজিল্যান্ড বোলাররা। হ্যামিল্টনের উইকেটে বাতাস ও সুইং থাকায় পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। তা কাজে লাগিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, নেইল ওয়েগনার ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। বাংলাদেশের মোট ২০টি উইকেটই নিয়েছেন তারা।

৪. হারের পেছনে বাংলাদেশের পরিকল্পনার অভাব সুস্পষ্ট। মাত্র চারজন ফুলটাইম বোলার নিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা। এদের মধ্যে কেবল মিরাজ ছিলেন অভিজ্ঞ। এছাড়া রাহী, খালেদ ও এবাদত ছিলেন অনভিজ্ঞ। তারা ব্যর্থ হওয়ায় বোলিং করান সৌম্য সরকারকে। তিনি সফলও হন। ফলে পঞ্চম বোলারের অভাব টের পাওয়া যায়। যেখানে মোস্তাফিজুর রহমানকে খেলানো যেতো।

৫. বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ। সাকিব আল হাসানের ইনজুরির কারণে অধিনায়কত্ব করছেন তিনি। এ টেস্টে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন তিনি। বোলারদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারেননি। ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন এনে পরীক্ষা-নীরিক্ষাও চালাননি। সতীর্থদের সাহস জোগাতে পারে এরকম কোনো বাণীও ছুড়তে পারেননি।

৬. এ টেস্টে ফিল্ডিংয়ে ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা দেখা গেছে বাংলাদেশের। টেস্টে ভালো করতে হলে হাফ চান্স ফুল চান্সে পরিণত করতে হবে। সেখানে নাগালে পাওয়া ক্যাচ ছেড়েছেন ফিল্ডাররা। কিছু দূরহ ক্যাচ তো ছুটেছেই। যেগুলো অন্য দেশের ফিল্ডাররা হরহামেশা ধরে থাকেন।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

20 − 10 =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ