Menu

উপজেলা নির্বাচন পাঁচ ধাপে

সাতমাথা অনলাইন ডেস্ক: এবার পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিভাগভিত্তিক ভোট নেয়া হবে। আট বিভাগে চার ধাপে এবং অবশিষ্টগুলোর মেয়াদ শেষ হলে একসঙ্গে ভোট হবে। সদর উপজেলার সব কেন্দ্রে ভোট হবে ইভিএমে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা হবে। এদিকে জাতীয় সংসদে ৫০ সংরক্ষিত নারী আসনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা হবে।

সোমবার কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী, সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-১ আসন শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত জটিলতায় তফসিল নির্ধারণ করা হয়নি।সচিব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম, পুনর্নির্বাচনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি নাকচ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।কমিশন বলেছে, কেউ সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারেন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছে ইসি।সোমবার বিকালে কমিশনের ৪২তম এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চারটি এজেন্ডা ছিল। সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল নির্ধারণ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তফসিল নির্ধারণ, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্মারকলিপি বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় তিন কমিশনার, ইসি সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দেশের বাইরে অবস্থান করায় তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে বিভাগ অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হবে।

যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা, এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা ও সামনে পবিত্র রমজান- এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে প্রশাসনিক বিভাগ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি।

আশা করছি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করতে পারব। তিনি বলেন, জেলা সদর উপজেলাগুলোয় ইভিএম ব্যবহারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সদর উপজেলার সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, আট বিভাগে চার ধাপে আর যেগুলো বাকি থাকবে সেগুলোতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে ভোট করা হবে।কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত ৩ জানুয়ারি কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে এবং গত ছয় জানুয়ারি আরেকটি স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ বলেছে ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ সত্য নয়। কমিশন এগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছে। তারা (বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল ও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এগুলো আর এখন করার সুযোগ নেই। যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হয়, তাহলে তারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আসনভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সরবরাহ করা হবে কী না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসনভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে থাকে। আমাদের কাছে আসনভিত্তিক ফলাফল আছে। কিন্তু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংরক্ষণ করি না। এটা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।

সচিব বলেন, সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দল ও জোটগত অবস্থান জানাতে চেয়ে চিঠি দেবে ইসি। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা। বিস্তারিত তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় জানা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, বিএনপি ও গণফোরাম এখনও শপথ না নিলেও তাদের অবস্থান জানার পর করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ-১ আসন শূন্য ঘোষণা নিয়ে জটিলতা রয়েছে জানিয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ওই আসনটি এখন বর্তমানে শূন্য আছে। যেহেতু তিনি শপথগ্রহণ করেননি এবং গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গেছে স্বাভাবিকভাবেই এখানে আইনগত জটিলতা আছে। এ বিষয়ে কমিশন বলেছে, সংসদ সচিবালয়ে থেকে বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে। সুতরাং কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করেনি। সংসদ সচিবালয় থেকে বিষয়টি অবহিত করার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী, সংসদের সাধারণ আসনে শপথগ্রহণকারী ব্যক্তিরাই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোটার হবেন। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ২৯৮ আসনে নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশিত হয়েছে ১ জানুয়ারি। স্থগিত থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফলও এসে গেছে। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আটকে যাওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি। গেজেটের ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭, জাতীয় পার্টি ২২, বিএনপি ৬, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩, জাসদ ২, গণফোরাম ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ১, জেপি ১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জিতেছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

4 × 2 =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ