Menu

‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে’র মামলায় প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা গ্রেফতার

সাতমাথা ডেস্ক: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি চুরির চেষ্টা এবং মোবাইলে ছবি তোলার’ অভিযোগে প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে বিবিসির খবরে বলা হয়, সোমবার দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য সচিবের পিএস-এর কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে এদিন রাতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেখান থেকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহবাগ থানার পুলিশের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরানো এবং অনুমতি ছাড়া মোবাইল দিয়ে ছবি তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কিছু অসৎ উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে ওই পত্রিকার সাথে যোগাযোগ করা হলে পত্রিকার ব্যবস্থানা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বলেছেন, আক্রোশ থেকেই তাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, টিকা নিয়ে অব্যবস্থাপনা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে, যে প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেই আক্রোশ থেকে তাকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি আটকে রেখে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের পিএস সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সচিবালয়ে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার কক্ষে ঢুকে রাষ্ট্রীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ রোজিনা ইসলাম তার ব্যাগে ভরে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং মোবাইল দিয়ে ছবি তোলেন। এসময় তিনি ধরা পড়েন।

বাংলাদেশে এখন স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই : ফখরুল

অনলাইন প্রতিবেদক

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ৫ ঘন্টা আটক রেখে পুলিশের কাছে হস্তান্তর ও তার বিরুদ্ধে জিডি করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপি।

মঙ্গলবার রাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোজিনা ইসলাম একজন সিনিয়র সাংবাদিক। তার অনেক অনুসন্ধানী ও সাহসী রিপোর্টে সরকারের বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক বড় বড় দুর্নীতির খবর জনগণ জানতে পেরেছে। সে জন্য সরকার তার ওপর নজরদারি করছিল বলে মনে হয়। তিনি বলেন, আজ পেশাগত কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে একা পেয়ে তাঁকে অন্যায় ভাবে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা আটকে রেখে তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ ডেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ ঘটনা তুচ্ছ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, কর্তৃত্ববাদী শাসনে সাংবাদিক দলন এবং সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির সংবাদ প্রচারে অব্যাহত প্রতিবন্ধকতার একটি উদাহরণ।

মির্জা ফখরুল বলেন, রোজিনা ইসলামের মতো সাহসী এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা যাতে আর সরকারের দুর্নীতি,লুটপাট, অনিয়ম,স্বেচ্ছাচারিতার সংবাদ প্রকাশ না করতে পারে,এ ঘটনার মাধ্যমে তাদেরকে ভয় দেখানো হলো। এসময় তিনি রোজিনা ইসলামকে মুক্তি, তার বিরুদ্ধে করা জিডি প্রত্যাহার ও তাকে আটকে রাখার সাথে জড়িতদের বিচার এবং সাংবাদিক দলন-নিপীড়ন বন্ধ করে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সঠিক তথ্য পাবার অধিকারে সরকারী হস্তক্ষেপ বন্ধের জোর দাবি জানান।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

three × 4 =

সম্পাদকীয়

    উপ-সস্পাদকীয়

    সংবাদ আর্কাইভ

    সংবাদ